প্রকাশিত: মে ৩১, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় কোরবানির মাংস গ্রহণ না করাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নিলে দুই সহোদরসহ অন্তত তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার দুপুরের দিকে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের একটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদুল আজহার কোরবানির পর এক পরিবারের পক্ষ থেকে পাশের প্রতিবেশীর বাড়িতে মাংস পাঠানো হয়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে ওই পরিবার তা গ্রহণ না করে ফেরত পাঠায়। এই ঘটনাকে ঘিরেই দুই পক্ষের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।
পরদিন সকাল থেকেই দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। বিষয়টি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা কমলেও পরে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দেয়, যা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের সময় কয়েকজন ব্যক্তি হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে এক পরিবারের দুই ভাই গুরুতরভাবে আহত হন। পাশাপাশি পরিবারের আরেক সদস্যও মারধরের শিকার হন। আহতদের মধ্যে সাইফুর রহমান নামের একজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অন্য আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। অনেকেই সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এলাকার দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রথম দিকে বিষয়টি ভুল-বোঝাবুঝির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে পারস্পরিক উত্তেজনা ও ক্ষোভের কারণে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। তারা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা সামাজিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া উদ্বেগজনক। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিরসনের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
এদিকে আহতদের পরিবার ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।



