প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের চার সদস্যকে যশোরের ঝিকরগাছায় দাফন করা হয়েছে। তাদের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।
মঙ্গলবার (২ জুন) রাত ১০টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছায় প্রবাসফেরত আরিফুল ইসলাম, তার মা নুরজাহান বেগম, ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম ও বোন আয়েশা আক্তারের মরদেহ।
পরে রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে মা নুরজাহান বেগমকে মাঝখানে রেখে দুই পাশে তার দুই ছেলে আরিফুল ইসলাম ও রাকিবুল ইসলামকে দাফন করা হয়। মেয়ে আয়েশা আক্তারকে দাফন করা হয়েছে তার শ্বশুরবাড়ি উজ্জ্বলপুর গ্রামে। একই দুর্ঘটনায় নিহত প্রাইভেটকারচালক জাহিদ হোসেনকে দাফন করা হয়েছে মণিরামপুর উপজেলার গৌরীপুর গ্রামে।
জানা গেছে, ভূমিহীন পরিবারের সন্তান আরিফুল ইসলাম ১১ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। দীর্ঘ প্রবাসজীবনের উপার্জনে দেশে পাঁচ শতক জমি কিনে পরিবারের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করেন।
সোমবার রাতে ছুটিতে দেশে ফেরেন আরিফুল। তাকে বরণ করে নিতে মা, ভাই, বোনসহ পরিবারের সদস্যরা ঢাকার বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।
আরিফুলের দুলাভাই ইলিয়াস হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে ফেরা মানুষটিকে স্বাগত জানাতে পরিবারের সবাই গিয়েছিলেন। কিন্তু ফেরার পথে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটবে, তা কেউ কল্পনাও করেননি।
মামা নজরুল ইসলাম বলেন, ১১ বছর পর দেশে ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও পেল না আরিফুল। একই ঘটনায় পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুতে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে।
বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিস-উর রহমান বলেন, নুরজাহান বেগম এলাকায় পরিচিত একজন মানুষ ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। পরিবারের আর্থিক অবস্থাও খুব বেশি ভালো ছিল না।
একসঙ্গে মা, দুই ছেলে ও মেয়ের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।



