রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দীর্ঘ ৩৮ বছর পর পরিবারের কাছে জাবেদ আলী, মেনে নেননি স্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

দীর্ঘ ৩৮ বছর পর পরিবারের কাছে জাবেদ আলী, মেনে নেননি স্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

সামান্য অভিমানে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রায় ৩৮ বছর পর নিজ গ্রামে ফিরেছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের বাসিন্দা জাবেদ আলী (৭০)। দীর্ঘদিন পর তার ফিরে আসার খবরে তাকে একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৮ বছর আগে ৩২ বছর বয়সে হঠাৎ করেই বাড়ি ছেড়ে চলে যান জাবেদ আলী। এরপর পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। বহু বছর ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে স্বজনরা ধরে নিয়েছিলেন, তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই।

গত সোমবার (১ জুন) হঠাৎ করেই নিজ এলাকায় ফিরে আসেন জাবেদ আলী। তবে নিজ বাড়িতে না উঠে আপাতত বড় ভাই আবেদ আলীর বাড়িতে অবস্থান করছেন। দীর্ঘদিন পর স্ত্রী রুশিয়া খাতুনের সঙ্গে দেখা হলেও তাদের মধ্যে কোনো কথাবার্তা হয়নি।

জাবেদ আলীর চাচাতো ভাই নাজিম উদ্দিন বলেন, বহু বছর ধরেই তাকে খোঁজা হয়েছে। ৩৮ বছর পর ফিরে আসায় পরিবারের সবাই আনন্দিত। এখন তিনি যেন পরিবারের সঙ্গেই থাকেন, সেটাই সবার প্রত্যাশা।

জাবেদ আলী জানান, বাড়ি ছাড়ার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে শেষ পর্যন্ত মানিকগঞ্জে বসবাস শুরু করেন। সেখানে জমি কিনে বাড়িও করেছেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী আট বছর আগে মারা গেছেন এবং সেখানে ১১ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে।

তিনি বলেন, “সামান্য একটি অভিমান থেকেই বাড়ি ছেড়েছিলাম। লেখাপড়া জানি না, মোবাইল ফোনও ছিল না। তাই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। অর্থকষ্টসহ নানা কারণে আর ফেরা হয়নি।”

জাবেদের নাতি জিসান আহমেদ বলেন, জীবনে প্রথমবারের মতো তিনি তার দাদাকে দেখেছেন। তাকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সবাই খুশি।

তবে স্ত্রী রুশিয়া খাতুনের মধ্যে এখনো রয়েছে দীর্ঘদিনের অভিমান। তিনি বলেন, স্বামী চলে যাওয়ার পর সংসার ও সন্তানদের দায়িত্ব একাই বহন করেছেন। এত বছর কোনো খোঁজখবর বা ভরণপোষণ পাননি।

রুশিয়া খাতুন বলেন, “শুধু ফিরে এলেই সব আগের মতো হয়ে যায় না। দীর্ঘদিনের খোরপোশ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে সমাধান না হলে তাকে গ্রহণ করব না।”

বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম জানান, পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে। আশা করা হচ্ছে, সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে জাবেদ আলী পরিবারের সঙ্গেই বাকি জীবন কাটাতে পারবেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!