প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় ট্রেন ও মালবাহী ট্রাকের সংঘর্ষের ঘটনায় সাময়িকভাবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। রবিবার সকালে বড়তাকিয়া এলাকায় সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষের পর চট্টগ্রামের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। পরে উদ্ধার তৎপরতা শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করা পাহাড়িকা এক্সপ্রেস বড়তাকিয়া এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ একটি মালবাহী ট্রাক রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে দ্রুতগতিতে আসা ট্রেনটির সঙ্গে ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়। আকস্মিক এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় ট্রাকটির বিভিন্ন অংশ রেললাইনের ওপর ছড়িয়ে পড়ে। এতে রেলপথ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে উভয় লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে চট্টগ্রামমুখী ও চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে যাওয়া একাধিক ট্রেন নির্ধারিত সময়ে চলাচল করতে পারেনি। এতে দূরপাল্লার যাত্রীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, উদ্ধারকারী দল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। রেলপথ দ্রুত সচল করতে ট্রাকের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সরানোর কাজ শুরু করা হয়। কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার কারণে রেললাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল।
স্টেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রাকটি ট্রেনের সঙ্গে আটকে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে কয়েক ঘণ্টা ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তবে উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করায় পরে যানটি সরিয়ে রেলপথ সচল করা সম্ভব হয়।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রী বা চালকের প্রাণহানি কিংবা গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি, যা বড় ধরনের স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আকস্মিক এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয় এবং অনেককে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে কীভাবে একটি ভারী যানবাহন রেললাইনের ওপর উঠে এলো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে রেলক্রসিং এলাকায় আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও ভাবা হচ্ছে।
সকাল সাড়ে দশটার দিকে রেলপথ পুনরায় সচল হলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে ট্রেন চলাচল। এতে আটকে থাকা যাত্রীদের যাত্রা আবারও শুরু হয় এবং সাময়িক অচলাবস্থার অবসান ঘটে।



