প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ১০:৪০ এএম
রাঙ্গামাটির মনোরম কাপ্তাই হ্রদে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। হ্রদের পানিতে সাঁতার কাটতে নেমে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনসহ সহপাঠীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার চক্রপাড়া এলাকার কাপ্তাই হ্রদে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম ইনতিশার হাসনাত (২২)। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে কয়েকজন বন্ধু মিলে অবকাশযাপনের উদ্দেশ্যে রাঙ্গামাটি বেড়াতে যান। দুপুরের পর তারা নৌকায় করে কাপ্তাই হ্রদ ঘুরতে বের হন। ভ্রমণের একপর্যায়ে নৌকাটি চক্রপাড়া এলাকার কাছাকাছি একটি বালুচরের পাশে থামে। পরে সবাই মিলে হ্রদের পানিতে নামেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও কিছু সময় পর ইনতিশার সাঁতার কাটতে কাটতে হ্রদের গভীর অংশে চলে যান। এক পর্যায়ে তাকে আর দেখা যায়নি। বন্ধুরা তাকে খুঁজে না পেয়ে দ্রুত স্থানীয়দের সহযোগিতা চান এবং উদ্ধারকারী দলকে খবর দেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকর্মীরা। একটি বিশেষ ডুবুরি দল দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে হ্রদের প্রায় ২৫ ফুট গভীর অংশ থেকে ইনতিশারকে উদ্ধার করে। উদ্ধার করার সময় তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে দ্রুত তাকে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অনেকেই জানান, কাপ্তাই হ্রদের কিছু অংশ বাইরে থেকে শান্ত মনে হলেও ভেতরে গভীরতা অনেক বেশি এবং স্রোতের পরিবর্তন হঠাৎ বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া পানিতে নামা ঝুঁকিপূর্ণ।
ইনতিশারের অকাল মৃত্যুতে তার সহপাঠী, শিক্ষক এবং পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে শোক প্রকাশ করে তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একটি আনন্দঘন ভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকের ঘটনায়।



