প্রকাশিত: জুন ১৩, ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে তিনটি গ্রাম ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমি পানির নিচে চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, রাতারাতি পরিস্থিতির এমন অবনতি হওয়ায় তারা প্রস্তুতি নেওয়ারও সুযোগ পাননি।
উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ভান্ডারুয়া, জামালপুর ও এক্তিয়ারপুর গ্রামে শুক্রবার গভীর রাত থেকে পানি বাড়তে শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, টানা বৃষ্টির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল হঠাৎ করে এলাকায় প্রবেশ করায় পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয়। শনিবার সকাল হতে না হতেই গ্রামের অধিকাংশ নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকার সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় অনেক মানুষ ঘরবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। কোথাও কোথাও পরিবারগুলো শিশু ও বৃদ্ধ সদস্যদের নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পানিবেষ্টিত অবস্থার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে কাঁচা রাস্তা ও ছোট সেতুগুলো পানির নিচে চলে যাওয়ায় যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, আকস্মিক এই ঢলে কয়েক শ একর আউশ ধান, বিভিন্ন মৌসুমি সবজি ও পশুখাদ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাঠজুড়ে জমে থাকা পানির কারণে কৃষকদের সারা মৌসুমের পরিশ্রম মুহূর্তেই নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পানি দ্রুত না কমলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
এক্তিয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা সুন্দর আলী বলেন, তার ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়েছে। রাস্তায় হাঁটুর ওপরে পানি থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, শুধু তার নয়, আশপাশের বহু কৃষকের ক্ষেতের ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে।
জামালপুর গ্রামের আরেক বাসিন্দা হুমায়ূন কবীর বলেন, হঠাৎ করে পুরো গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংকটে পড়েছে। গবাদিপশু রক্ষাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানান।
শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান শাহজাহানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. পারভেজ চৌধুরী। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এলাকা ঘুরে দেখেছেন। যেসব পরিবার মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তায় রয়েছে, তাদের তালিকা প্রস্তুত করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, কিছু এলাকায় পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে, তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি আরও কয়েকদিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তাই দ্রুত ত্রাণ, চিকিৎসা সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন তারা।



