চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি
পর্দানশীন নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, হিজাব-নিকাবকে বিদ্রূপ এবং নারীর ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্যের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (১৪ জুন) চাকসু সাধারণ সম্পাদক সাইদ বিন হাবিব স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে চাকসু নেতারা বলেন, দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুশীলনের স্বাধীনতা দিয়েছে। একজন নারী হিজাব, নিকাব বা অন্য কোনো ধর্মীয় পোশাক পরবেন কি না, তা তার ব্যক্তিগত অধিকার ও স্বাধীন পছন্দের বিষয়। এই অধিকারকে বিদ্রূপ বা প্রশ্নবিদ্ধ করা শুধু ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার চেতনাকেও ক্ষুণ্ন করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও জনপরিসরের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্যে শালীনতা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকা প্রয়োজন। পর্দানশীন নারী সংসদ সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং হিজাব-নিকাবকে ব্যঙ্গ করা ধর্মপ্রাণ নারী ও সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
চাকসুর মতে, পর্দা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতিরও একটি অংশ। এ দেশের বহু নারী ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে হিজাব ও নিকাব পরিধান করেন। তাদের এই ধর্মীয় অনুশীলনকে উপহাস বা নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে হেয় করার স্বাধীনতা হতে পারে না। একজন নারী পর্দা পালন করলে তাকে কটাক্ষ করা যেমন অনুচিত, তেমনি তার ধর্মীয় পরিচয়কে বিদ্রূপের বিষয় বানানোও অসহিষ্ণুতার পরিচায়ক।
চাকসু নেতারা বলেন, নারীর অধিকার মানে তার নিজের জীবন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধর্মীয় বিধান পালনের বিষয়ে স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা। পর্দা পালনকারী নারীদের হেয়-প্রতিপন্ন করার অধিকার কারও নেই।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ধর্মীয় মূল্যবোধ, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নারীর মর্যাদাকে সম্মান করে দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
মাতৃভূমির খবর