রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গোসলের সময় কথা-কাটাকাটি, বন্ধুকে ডুবিয়ে হত্যা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

গোসলের সময় কথা-কাটাকাটি, বন্ধুকে ডুবিয়ে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সদর উপজেলায় এক কিশোরের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে তর্কের একপর্যায়ে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে তাকে। ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই কিশোর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

নিহত রাহাত (১৫) স্থানীয়ভাবে ‘গাটু’ নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণসিংহা গ্রামের বাসিন্দা। একই এলাকার আরও দুই কিশোরের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে গ্রামের একটি বড় দিঘিতে একসঙ্গে গোসল করতে যায় তিন বন্ধু। গোসলের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই কিশোর মিলে রাহাতকে পানির নিচে চেপে ধরে রাখে। কিছু সময় পর তাকে নিস্তেজ অবস্থায় পানিতে ভাসতে দেখা যায়।

ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত রাহাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দুই কিশোরের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে পানিতে চুবিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার সঠিক রহস্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, তিন বন্ধুর মধ্যে তর্কের জের ধরেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!