রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খুলনা-যশোর মহাসড়কে তিন যানবাহনের সংঘর্ষে আহত ৮

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

খুলনা-যশোর মহাসড়কে তিন যানবাহনের সংঘর্ষে আহত ৮

ছবি: সংগৃহীত

খুলনার ফুলতলা উপজেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। বুধবার সকালে খুলনা-যশোর মহাসড়কের যুগ্নিপাশা বাজার সংলগ্ন এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি জ্বালানিবাহী যানবাহনের সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে মহাসড়ক দিয়ে নিয়মিত যান চলাচলের মধ্যেই একটি জ্বালানিবাহী যান যশোর দিক থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে হঠাৎ যানটির একটি চাকা বিস্ফোরিত হলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। নিয়ন্ত্রণ হারানো যানটি বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় যানবাহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম সংঘর্ষের কয়েক মুহূর্ত পরই পেছন থেকে আসা আরেকটি যাত্রীবাহী বাস সামনে থাকা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলোকে এড়িয়ে যেতে ব্যর্থ হয়। ফলে সেটিও সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে তিনটি যানবাহনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়।

দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। এছাড়া একজন প্রকৌশলী এবং যানবাহনের সহকারীও আহত হয়েছেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং অধিকাংশই শঙ্কামুক্ত।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে যান চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়।

ফুলতলা থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জ্বালানিবাহী যানটির চাকা বিস্ফোরণের কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনা ঘটে এবং সেখান থেকেই পুরো দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়।

স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করার কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তারা মহাসড়কে নিয়মিত যানবাহনের সক্ষমতা পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে দুর্ঘটনার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!