প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক আন্তরিক ও প্রাণবন্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান। শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং ব্যক্তিগত আগ্রহের বিষয়ে তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা আলোচনা করেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জাইমা রহমান প্রায় তিন ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বপ্ন, লক্ষ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরার সুযোগ পায়। জাইমা রহমান মনোযোগ সহকারে তাদের কথা শোনেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে উৎসাহব্যঞ্জক পরামর্শ দেন।
আলোচনায় তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর বিকাশের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক সচেতনতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব কার্যক্রম আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং নেতৃত্বগুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে যখন তিনি শিশুদের সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি জানতে চান তারা ঘরের কাজ বা রান্নাবান্নায় কতটা অংশ নেয়। কয়েকজন শিক্ষার্থী রান্না করতে পারার কথা জানালে তাদের সঙ্গে হাস্যরসপূর্ণ কথোপকথনে মেতে ওঠেন তিনি। এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দের খাবারের কথাও শোনায়।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, দেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের সঙ্গে এত কাছ থেকে কথা বলার সুযোগ তাদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। তারা বলেন, জাইমা রহমান তাদের প্রত্যেকের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচকভাবে চিন্তা করতে উৎসাহিত করেছেন।
শিক্ষকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা মনে করেন, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ শিশুদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং বড় স্বপ্ন দেখতে সহায়তা করে।
উপস্থিত শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও জানান, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টির ক্ষেত্রে এমন উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর। তারা বলেন, শিশুদের প্রতি জাইমা রহমানের আন্তরিকতা এবং ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কথা শোনার বিষয়টি সবাইকে মুগ্ধ করেছে।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের মুখে ছিল উচ্ছ্বাস, আনন্দ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার প্রত্যয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



