প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে ভারত প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে নারী ও শিশুসহ নয়জন বাংলাদেশিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। সীমান্তে নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের শ্রীবরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন শিশু, তিনজন নারী এবং দুজন পুরুষ রয়েছেন। তাদের বাড়ি নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ভোলা জেলার বিভিন্ন এলাকায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জনপ্রতি চল্লিশ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাচারকারী চক্রের সদস্যরা তাদের রাজধানী থেকে শেরপুরে নিয়ে আসে। এরপর সীমান্তের কাছাকাছি একটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করিয়ে সুযোগ বুঝে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করানোর পরিকল্পনা করা হয়। তবে সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি থাকায় নির্ধারিত রাতে তারা সীমান্ত পার হতে পারেননি।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণঝোড়া সীমান্ত ফাঁড়ির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে সবাইকে আটক করেন। অভিযানে মানবপাচারের পরিকল্পনা ভেস্তে যায় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে পাচারকারী চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও পাসপোর্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুদের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ যাতায়াত ও মানবপাচার রোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।



