রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শেরপুরে দুমড়ে-মুচড়ে গেল অটোরিকশা, নিহত চালক-যাত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০২:২১ পিএম

শেরপুরে দুমড়ে-মুচড়ে গেল অটোরিকশা, নিহত চালক-যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিকশাচালক ও এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর সড়কের পাশে দুমড়ে-মুচড়ে থাকা অটোরিকশা এবং দুইজনের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য ময়নাতদন্তে পাঠায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় বাঘবের ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনের শেরপুর-নালিতাবাড়ী সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের একজন অটোরিকশাচালক কামরুল হোসেন (৪০)। তিনি নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবের খড়িয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অপর নিহত ব্যক্তি শহিদুল ইসলাম (৪০), যিনি সালেহাবাদ কৃষ্ণপট্টি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

জানা যায়, শহিদুল ইসলাম ব্যক্তিগত কাজ শেষে রাজধানী থেকে রাতে নালিতাবাড়ী শহরে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি একটি অটোরিকশা ভাড়া করে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। চালক কামরুল হোসেন তাকে নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু মাঝপথে সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় পৌঁছানোর পর অটোরিকশাটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের আগে সড়কের পাশে একটি দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা দেখতে পান তারা। তার কিছু দূরেই পড়ে ছিল দুইজনের মরদেহ। ঘটনাটি দেখে আশপাশের মানুষ দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে দুর্ঘটনাস্থল ঘিরে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুরের মর্গে পাঠায়।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সড়কের পাশে রাখা বালুর স্তূপের আশপাশেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে এটি চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে হয়েছে নাকি অন্য কোনো যানবাহনের সম্পৃক্ততা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে কাজ চলছে।

এ ঘটনায় নিহত দুই পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা দ্রুত দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন এবং মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!