রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মানবিক-বাণিজ্যে কেউ পাস করেনি, ক্ষোভে শিক্ষকদের তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

মানবিক-বাণিজ্যে কেউ পাস করেনি, ক্ষোভে শিক্ষকদের তালাবদ্ধ করে বিক্ষোভ

সংগৃহীত

শেরপুর সদর উপজেলার রামেরচর উচ্চবিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে না পারায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষককে কার্যালয়ের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রামেরচর উচ্চবিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ মিলিয়ে মোট ৭৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের মধ্যে মাত্র ২১ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। বিপরীতে অনুত্তীর্ণ হয়েছে ৫৭ জন।

ফলাফলের সবচেয়ে হতাশাজনক দিক ছিল মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে। এই দুই বিভাগের একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিজ্ঞান বিভাগেও ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি; এ বিভাগে ৪৩ জন শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফল প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান হয় না। অনেক শিক্ষক নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি প্রয়োজনীয় নজর দেওয়া হয় না। দীর্ঘদিনের এসব অব্যবস্থাপনার কারণেই পরীক্ষার ফলাফলে এমন বিপর্যয় ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।

বিক্ষোভ চলাকালে উত্তেজনা বাড়লে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নেন। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কার্যালয়ের বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। খবর পেয়ে শেরপুর সদর থানা পুলিশ বিদ্যালয়ে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

পরে পুলিশ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা হয়। আলোচনার একপর্যায়ে শিক্ষকরা লিখিত অঙ্গীকার করলে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে তাদের মুক্ত করা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে শিক্ষকরা কার্যালয় থেকে বের হতে পারেন।

শিক্ষকদের দেওয়া লিখিত অঙ্গীকারে বলা হয়, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ফি এবং ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণের খরচ শিক্ষকরা নিজেদের অর্থে বহন করবেন।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা জানান, শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পরিস্থিতি শান্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা শেষে সমঝোতার মাধ্যমে শিক্ষকদের মুক্ত করা হয়।

শেরপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চান মিয়া জানান, বিদ্যালয়ের ঘটনাটি তিনি অবগত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!