প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
দীর্ঘ ৪২ বছর পর জন্মভূমির মাটিতে ফিরে আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম দিলেন লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরু মিয়া কাজী। চার দশকেরও বেশি সময় বিদেশে কাটিয়ে অবশেষে নিজের গ্রামে ফিরে আসায় স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ আর আবেগের এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আপনজনকে কাছে পেয়ে অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে শৈশবেই দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমান নুরু মিয়া। প্রথমে তিনি ইরানে দীর্ঘ সময় কর্মজীবন কাটান। পরে পাকিস্তানে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি সংসার গড়ে তোলেন এবং বর্তমানে দুই ছেলে ও তিন মেয়ের জনক।
বিদেশে অবস্থান করলেও জন্মভূমির প্রতি তাঁর টান কখনো কমেনি। শুরুতে নিয়মিত চিঠিপত্রের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং স্বজনদের আর্থিক সহায়তাও পাঠাতেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে নানা কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কয়েক বছর আগে আবার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হলে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে।
তবে দেশে ফেরার আনন্দের মাঝেও রয়েছে গভীর বেদনা। তিন বছর আগে তাঁর মা মৃত্যুবরণ করেন। শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখতে না পারার কষ্ট আজও তাঁকে ভারাক্রান্ত করে। দেশে ফিরে মায়ের কবর জিয়ারত করার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
নিজ গ্রামে পৌঁছানোর পর নুরু মিয়াকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাঁকে আন্তরিকভাবে বরণ করে নেন। বহু বছর পর ফিরে আসা প্রিয় মানুষটিকে কাছে পেয়ে অনেকের চোখে আনন্দের অশ্রু ঝরতে দেখা যায়।
নুরু মিয়া বলেন, জন্মভূমিতে ফিরে তিনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। নিজের দেশের মাটি, মানুষের ভালোবাসা এবং পরিবারের সান্নিধ্য তাঁকে নতুন করে আবেগে ভাসিয়েছে। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর এই পুনর্মিলন শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার মানুষের কাছেও একটি স্মরণীয় ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনা হয়ে থাকবে।



