প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
ইংল্যান্ড সফরে মাঠের বাইরের নানা ঘটনায় চাপে থাকা পাকিস্তান ক্রিকেট দলে এবার নতুন করে তৈরি হয়েছে অস্বস্তি। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের মুঠোফোন নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। তবে ঠিক কোন ক্রিকেটারদের ফোন নেওয়া হয়েছে এবং এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্ট শুরুর আগে ফোনগুলো জব্দের বিষয়টি সামনে আসে। জানা গেছে, তৃতীয় টেস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মুঠোফোনগুলো বোর্ডের হেফাজতেই থাকবে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পাকিস্তান দলের ভেতরে এ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
ফোন জব্দের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সম্ভাব্য দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের বিষয়টি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাচের ফল প্রভাবিত করা, অবৈধভাবে তথ্য আদান-প্রদান কিংবা জুয়াড়িদের সঙ্গে যোগাযোগের মতো কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত যোগাযোগব্যবস্থার ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের ফোন একসঙ্গে নিজেদের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানো, জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা কিংবা অন্য কোনো দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এমনকি ফোনগুলো দুর্নীতিবিরোধী তদন্তের অংশ হিসেবে জব্দ করা হয়েছে—এমন আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও পাওয়া যায়নি। ফলে এ মুহূর্তে বিষয়টিকে সম্ভাব্য তদন্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে দেখার সুযোগ থাকলেও সেটিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
ক্রিকেটে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের বিভিন্ন বৈদ্যুতিন যোগাযোগ পরীক্ষা করা হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী মুঠোফোনে থাকা বার্তা, কথোপকথন, ছবি, ভিডিও, শব্দধারণ এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজন হলে এসব তথ্যের প্রবেশাধিকারও চাওয়া হতে পারে। এ কারণেই ক্রিকেটারদের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত যন্ত্রপাতি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এরই মধ্যে পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফর মাঠের পারফরম্যান্সের দিক থেকেও সুখকর হয়নি। সিরিজের প্রথম দুই টেস্টেই বড় ব্যবধানে হেরে ইতোমধ্যে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে ইনিংস ও ১০৩ রানের ব্যবধানে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ১৯৪ রানে পরাজিত হয় পাকিস্তান।
পরপর দুই ম্যাচে ব্যর্থতার পর পাকিস্তান দলে বড় ধরনের পরিবর্তনও এসেছে। দলের কোচিং কাঠামোতে পরিবর্তনের পাশাপাশি কয়েকজন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তৃতীয় টেস্টের আগে দলের দায়িত্বে এসেছে নতুন নেতৃত্ব ও প্রশিক্ষণ কাঠামো। ফলে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এর মধ্যেই কয়েকজন ক্রিকেটারের মুঠোফোন বোর্ডের হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা পাকিস্তান দলের পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় এনেছে। বিশেষ করে টানা পরাজয়, দলীয় পরিবর্তন এবং সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বিতর্কের মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত ক্রিকেটারদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের মধ্যকার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট আগামী বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হওয়ার কথা। সিরিজে ইতোমধ্যে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তানের সামনে শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর আগে ফোন জব্দের বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।
বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোন ক্রিকেটারদের ফোন নেওয়া হয়েছে এবং কেন নেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কারণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে ম্যাচ পাতানো বা দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্ত হয়ে থাকলে তার ফলাফলই শেষ পর্যন্ত প্রকৃত পরিস্থিতি পরিষ্কার করবে।



