প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম
গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী এলাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের এক নেতাকে আটক করার পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই ঘটনায় পুলিশকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে এক ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন গভীর রাতে কোনাবাড়ী থানার এক উপপরিদর্শকের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য প্রতাবপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় স্থানীয় কৃষক লীগের এক নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই রাতেই তাঁর পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন থেকে ওই ব্যক্তি আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।
এদিকে অভিযানের সময় পুলিশকে বাড়ির অবস্থান দেখিয়ে দেওয়ার অভিযোগে এলাকার এক মুদিদোকানিকে হুমকি দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করে জানিয়েছেন, পুলিশ তাঁর কাছে বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি জানিয়ে দেন। পরে আটক ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা তাঁর দোকানে এসে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকেই ব্যবসায়ী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কাছ থেকে আর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন সূত্রে অবগত হয়েছেন। তবে তাঁর কাছে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এমন গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জনআস্থা বজায় রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



