রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

টানা বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

টানা বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

ছবি: সংগৃহীত

অবিরাম ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও তার চেয়েও বেশি পানি জমে যাওয়ায় মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।

সকালের ভারী বৃষ্টির পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে দ্রুত পানি জমতে শুরু করে। আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, হালিশহর, কাজীর হাট, কুয়াইশ ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। অনেক বাড়িঘর, দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

জলাবদ্ধতার কারণে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বহু মানুষকে পানির মধ্যে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। অনেকেই জুতা হাতে নিয়ে এবং পোশাক গুটিয়ে জলাবদ্ধ সড়ক অতিক্রম করেন। যাত্রীবাহী যানবাহনের সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন সময়ে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সামান্য অতিবৃষ্টিতেই নগরীর বড় অংশ পানির নিচে চলে যায়। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই তাদের একই ধরনের দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়। অনেক পরিবার ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।

ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক দোকানে পানি প্রবেশ করায় পণ্যসামগ্রী নষ্ট হয়েছে এবং স্বাভাবিক ব্যবসা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নগরবাসীর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা না গেলে প্রতি বছরই একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তাই দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!