রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

উখিয়া-টেকনাফের শিবিরে বৃষ্টি-ভূমিধসে ১০ রোহিঙ্গার মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

উখিয়া-টেকনাফের শিবিরে বৃষ্টি-ভূমিধসে ১০ রোহিঙ্গার মৃত্যু

ফাইল ছবি

টানা কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা এবং ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে গত ৪ জুলাই থেকে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল পর্যন্ত অন্তত ১০ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

অবিরাম বৃষ্টির কারণে শিবিরজুড়ে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ের মাটি ধসে বসতঘর চাপা পড়েছে, কোথাও আবার হঠাৎ পানি ঢুকে আশ্রয়কেন্দ্র প্লাবিত হয়েছে। প্রবল বাতাসে বহু পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন অনেকেই।

দুর্যোগ পরিস্থিতির সার্বিক চিত্রে দেখা গেছে, চার দিনের বৃষ্টিতে শিবির এলাকায় অন্তত ১৬০টি পৃথক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৫২টি স্থানে পাহাড়ধস, ১৪টি এলাকায় আকস্মিক বন্যা এবং ৮৩টি স্থানে ঝড়ো হাওয়ায় বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক পরিবার চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও উদ্বেগজনক। দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ৬১৪টি আশ্রয়স্থল আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আরও ১০টি আশ্রয়স্থল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এর ফলে প্রায় ১৫ হাজার ৮১৩ জন রোহিঙ্গা সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পাশাপাশি ৩ হাজার ১৮২ জন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে সাময়িকভাবে অন্যত্র সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন মানবিক সহায়তাদানকারী সংস্থা। তারা বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, খাদ্য সহায়তা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং জরুরি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টা এই অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ঘেরা ও নিচু এলাকাগুলোতে নতুন করে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। সংশ্লিষ্টরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!