প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে ভারী বৃষ্টির পর আবর্জনার বিশাল স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২২ জন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় সময় রোববার রাতভর ভারী বৃষ্টিপাতের পর রাত ২টার দিকে রাজধানীর দার-এস-সালাম এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার একটি বড় বর্জ্য ফেলার স্থানে জমে থাকা আবর্জনার বিশাল স্তূপ হঠাৎ ধসে আশপাশের কয়েকটি বাড়ির ওপর পড়ে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে কর্তৃপক্ষ। সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ধসে পড়া আবর্জনা সরাতে খননযন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করতে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়েছেন। দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো মানুষের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় এক নারী জানিয়েছেন, এই ঘটনায় তার পাঁচ সন্তান মারা গেছে। আরেক স্থানীয় নেতা লানসিনে সিল্লা জানান, এখন পর্যন্ত ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
গিনির প্রধানমন্ত্রী মামাদু উরি বাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি উদ্ধার অভিযান ও পরিস্থিতি মোকাবিলার কার্যক্রম সরেজমিনে তদারকি করছেন।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, আবর্জনার স্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষ চাপা পড়ে থাকতে পারেন। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।
দার-এস-সালামের এই বর্জ্য ফেলার স্থানটি আগেও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়েছে। ২০১৭ সালে একই স্থানে আবর্জনার স্তূপ ধসে ১০ জন নিহত হয়েছিলেন। এরপরও সেখানে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য জমা হওয়া এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকার কাছাকাছি বিপুল পরিমাণ আবর্জনা জমা হওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।



