রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৪ সেঞ্চুরি করলো কাঁচামরিচ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

৪ সেঞ্চুরি করলো কাঁচামরিচ

ফাইল ছবি

টানা অতিবৃষ্টির প্রভাবে বগুড়ার সবজির বাজারে দেখা দিয়েছে সরবরাহ সংকট। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় শাকসবজির দামে। বিশেষ করে কাঁচামরিচের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়ে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে বেগুন, করলা, পটল, ঢেঁড়শ, টমেটোসহ অধিকাংশ সবজির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) বগুড়ার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় বিক্রেতারাও বেশি দামে পণ্য বিক্রি করছেন। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলো।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজির গাছ নষ্ট হয়ে উৎপাদন কমেছে। এতে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়ে গেছে। পরে পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় যুক্ত হয়ে খুচরা বাজারে মূল্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে বাজারে বেগুন প্রতি কেজি প্রায় ১৬০ টাকা, করলা ১৬০ টাকা, তরই ১০০ টাকা, ঢেঁড়শ ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, শসা ১২০ টাকা, টমেটো ১৪০ টাকা, ফুলকপি ১৬০ টাকা এবং গাজর ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি পেঁয়াজের দামও বেড়ে কেজিপ্রতি ৬০ টাকায় পৌঁছেছে। আলু, আদা, রসুন ও শুকনা মরিচের দামও আগের তুলনায় বেশি থাকায় নিত্যবাজারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, প্রতিদিনের বাজার করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সবজি কেনাও এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনে বাড়ি ফিরছেন।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টির কারণে সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী দিনগুলোতেও বাজারে দামের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বাজারে মূল্যস্থিতি ফিরে আসার সম্ভাবনা কম। তাই কৃষি উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!