প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
দেশের জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে টোটাল এনার্জিস থেকে ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই গ্যাস আমদানির একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এলএনজি আমদানির প্রস্তাবটি সভায় উপস্থাপন করা হয়।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী বছরের জুন পর্যন্ত মোট ১৮ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত প্রতি মাসে দুই কার্গো করে এই জ্বালানি দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত সময়জুড়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত জ্বালানি যুক্ত হবে এবং দেশের জরুরি চাহিদা সামাল দিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত চুক্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত এলএনজি কেনার সুযোগও রাখা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতি প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে দেশের গ্যাসের চাহিদা আরও বেড়ে গেলে অথবা সরবরাহ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিলে চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত কার্গো কেনার সুযোগ কাজে লাগানো যেতে পারে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানির ফলে জরুরি প্রয়োজনের সময়ে দ্রুত জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ তৈরি হবে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সার উৎপাদন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এই আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হওয়ায় এলএনজি আমদানি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি সংগ্রহের ব্যবস্থাও প্রয়োজন হয়।
নতুন এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আগামী অক্টোবর থেকে টানা নয় মাসে মোট ১৮ কার্গো এলএনজি দেশে আসবে। এর মাধ্যমে একদিকে গ্যাসের জরুরি চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করা হবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্য সরবরাহ ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশের প্রস্তুতিও আরও শক্তিশালী হবে।



