প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়ায় পাহাড়ধসে মাদরাসার দেয়াল চাপা পড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, নরসিংদী ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতাজনিত দুর্ঘটনায় শিশুসহ বেশ কয়েকজনের প্রাণহানি ঘটেছে।
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে বুধবার দুপুরে পাহাড়ধসে একটি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দেয়াল ভেঙে পড়ে। এ সময় সেখানে থাকা শিক্ষার্থীরা মাটির নিচে চাপা পড়ে। স্থানীয় উদ্ধারকারীরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অনেককে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয় এবং আরও অনেকে আহত হন। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। টানা বর্ষণের কারণে আশ্রয়শিবিরসহ পাহাড়ি এলাকাগুলোতে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম নগর ও আশপাশের এলাকায় ভারি বৃষ্টিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নগরের বিভিন্ন সড়ক, নিচু এলাকা ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বৃষ্টির পানিতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যকার রেল যোগাযোগও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। রেলপথের বিভিন্ন অংশে পানি জমে যাওয়ায় যাত্রী চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়।
শুধু চট্টগ্রাম নয়, ময়মনসিংহ ও নরসিংদীতেও বৃষ্টির কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে। ময়মনসিংহ নগরীতে জলাবদ্ধতার পানিতে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে নরসিংদীর রায়পুরায় ভারি বর্ষণে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
বান্দরবানেও পাহাড়ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পাহাড়ের মাটি পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দেশের অন্যান্য এলাকার সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে দেশের কয়েকটি নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আরও কয়েক দিন ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ি এলাকা, নদীতীরবর্তী অঞ্চল ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



