প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় দুর্যোগ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিতে পড়েছেন পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দারা।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৯৮টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিলাইছড়ি, কাউখালী ও কাপ্তাই এলাকার বিভিন্ন স্থান।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কাপ্তাই উপজেলায় ১৫টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি, কাউখালীতে ৩০টি, রাঙামাটি সদরে ১১টি, নানিয়ারচরে ২টি এবং বিলাইছড়িতে ৩৭টি স্থানে পাহাড়ধসের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় জেলার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়কের ওপর মাটি ও পানি জমে যোগাযোগ ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দুই শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ইতোমধ্যে কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে চার হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাঙামাটি পৌরসভা, সদর উপজেলা, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, রাজস্থলী, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত মানুষ অবস্থান করছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে পাহাড়ধস ও সড়কে পানি ওঠার কারণে রাঙামাটির সঙ্গে খাগড়াছড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই পাহাড়ের ঢালে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



