প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
রাঙামাটি শহরের আসামবস্তী ব্রাহ্মণটিলা এলাকায় একটি পেঁপে বাগানে রাতের অন্ধকারে শত শত গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বাগান মালিকের অভিযোগ, পূর্বে চাঁদার দাবি করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করায় প্রতিশোধমূলকভাবে বাগানের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন বাগান মালিকের ক্ষতিই নয়, বরং এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ভুক্তভোগী বাগান মালিক জানান, কয়েকদিন আগে তার বাগানের দায়িত্বে থাকা কর্মীর কাছে অপরিচিত ব্যক্তিরা যোগাযোগ করে চাঁদা দাবি করে। একই সঙ্গে মালিকের ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্যও জানতে চাওয়া হয়। দাবি পূরণ না করলে বাগান পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে দুই ব্যক্তি সরাসরি বাগানে গিয়ে মালিকের খোঁজ করেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই রাতের আঁধারে বাগানে হামলা চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি গাছের মধ্যে ৮০০টি পেঁপে গাছ কেটে ফেলা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত মালিকের দাবি, এতে তার প্রায় ২০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে জানিয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, কৃষকদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যারা চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মানুষের জীবিকা ধ্বংস করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা, ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং কৃষকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।



