প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশের একাধিক জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল পর্যন্ত দেশের কয়েকটি নদীর একাধিক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানির উচ্চতা বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর আশপাশের নিম্নাঞ্চলে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নিচু এলাকাগুলোতেও পানি জমে জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে।
সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী এবং ভুলাই-কংস নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানির গতিবিধিও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে। কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও আগামী কয়েক দিনে আবারও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোর পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
উত্তরাঞ্চলেও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেতে পারে। এসব নদীর নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে সাময়িক প্লাবনের সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কয়েকটি নদীর পানি আগামী দিনে কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ওইসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন বিভাগে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। পটুয়াখালী, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, ভৈরব, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের কয়েকটি এলাকাতেও ভারী বৃষ্টির কারণে নদীগুলোর পানিপ্রবাহ বাড়ছে।
অন্যদিকে রাজধানীতে টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও নদীর পানির গতিপথের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



