প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১১:০৫ এএম
টানা আট দিনের ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল এবং একের পর এক পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতঘর, সড়ক, সেতু-কালভার্ট, কৃষিজমি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকটও দেখা দিয়েছে দুর্গত এলাকাগুলোতে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে এখন পর্যন্ত ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। এসব জেলার প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ দুর্যোগের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এদিকে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাঙ্গু, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আশপাশের নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদীর পানি বেড়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, ফেনী ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি নদীর পানি বাড়তে থাকলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগপূর্ণ। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এসব এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। সাতকানিয়ার প্রায় সব ইউনিয়নের বহু গ্রাম বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও পানি কমলেও কয়েকটি এলাকায় এখনো নতুন করে পানি বাড়ছে।
বন্যার কারণে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও কয়েকদিন পানি জমে ছিল। অনেক রোগীকে দুর্ভোগ পেরিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ পানির সংকটে পড়েছেন অনেক মানুষ।
বাঁশখালীর উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও বন্যার প্রভাব তীব্র। কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। জোয়ারের পানি ও ভারী বৃষ্টির কারণে নিম্নাঞ্চলের বসতঘরগুলোতে পানি ঢুকে পড়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি, চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে কাজ চলছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পানি পুরোপুরি না কমা পর্যন্ত তাদের দুর্ভোগ কাটছে না।



