প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
পিরোজপুরের নেছারাবাদে একটি কলেজ শাখা ছাত্রসংগঠনের সভাপতিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ভুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে অনৈতিক যোগাযোগের অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার রাতে উপজেলার মাহমুদকাঠি এলাকার একটি বেসরকারি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারীরা দাবি করেন, অভিযুক্ত নেতা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ছদ্মনামে একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা হলেও পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হতো।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের এক নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারার পর কয়েকজন নেতাকর্মী অভিযুক্ত সভাপতির কাছে ব্যাখ্যা চাইলে তিনি ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও কথোপকথনের নথি নিজেদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
অভিযোগকারীদের আরও বক্তব্য, কয়েকজন শিক্ষার্থী সরাসরি অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অভিযোগের সবকিছুই প্রত্যাখ্যান করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রনেতা। তিনি বলেন, তার সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ ছড়াচ্ছে। তার দাবি, যে সব কথোপকথন ও তথ্য-প্রমাণের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো প্রযুক্তির সাহায্যে বিকৃত বা তৈরি করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান।
অন্যদিকে উপজেলা ছাত্রসংগঠনের দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।



