রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডেঙ্গুর বিস্তার দেশজুড়ে, ঝুঁকিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাও

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৮:৪০ এএম

ডেঙ্গুর বিস্তার দেশজুড়ে, ঝুঁকিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাও

প্রতীকী ছবি

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। গত প্রায় দেড় মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে রোগী বাড়তে থাকায় দেশের সব জেলাতেই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, এবার অল্পবয়সী শিশুরাও উল্লেখযোগ্য হারে আক্রান্ত হচ্ছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণের হার বাড়তে থাকায় চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে আরও বেশি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৭০ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গুজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছেন ৩২ জন। সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৯৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা কিছুটা স্বস্তির হলেও সার্বিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগমুক্ত নয়।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ৫৮৪ জন। অর্থাৎ মোট রোগীর প্রায় ছয় শতাংশই এই বয়সসীমার শিশু। এছাড়া ১৫ বছরের কম বয়সী আক্রান্তদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তুলনামূলক কম হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর জটিলতা দ্রুত বাড়তে পারে। তাই জ্বর, দুর্বলতা বা ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

লিঙ্গভিত্তিক হিসাবেও আক্রান্তের মধ্যে পার্থক্য দেখা গেছে। মোট রোগীর প্রায় ৬১ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ শতাংশ নারী। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, কর্মস্থল, যাতায়াত এবং বাইরে দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণে পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তবে নারী ও শিশুরাও সমানভাবে ঝুঁকির বাইরে নয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পুরোনো টায়ার, ড্রাম কিংবা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পরিষ্কার পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। তাই সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক থেকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!