রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কারাগার থেকে বন্দি পলায়ন, বরখাস্ত ৭ কারাকর্মী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১০:২০ এএম

কারাগার থেকে বন্দি পলায়ন, বরখাস্ত ৭ কারাকর্মী

ফাইল ছবি

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক নারী বন্দির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিনজন মেট্রন ও চারজন নারী কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই কারা অধিদপ্তর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। তদন্তে নিরাপত্তা দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কারা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা। এছাড়া নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমাকেও একই আদেশের আওতায় আনা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে যাচাই করতে পৃথক তদন্ত কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

সহকারী কারা মহাপরিদর্শক মো. জান্নাতুল ফরহাদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক বন্দিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে।

কারা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারাগারের অভ্যন্তরে প্রায় চল্লিশজন নারী বন্দিকে দিয়ে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। সেই সময় নিরাপত্তা তদারকিতে শৈথিল্যের সুযোগ নিয়ে রিম্পা নামের এক বন্দি কারাগারের ভেতরের একটি ভবনের পাশের কার্নিশ ব্যবহার করে সীমানা প্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে বিষয়টি নজরে এলে কারাগারের ভেতরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে কারাগারের নজরদারি চিত্র বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে বন্দিটি কারাগারের দেয়াল অতিক্রম করে পালিয়ে গেছেন। এরপরই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি থানার ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া একটি মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে ছিলেন।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুধু পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তার করাই নয়, কীভাবে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যেও এমন ঘটনা ঘটল, তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে আরও প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!