প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
প্রায় দেড় দশক আগে ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে দণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ আদায়ের নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।
রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এই রায় ঘোষণা করেন। আদালত আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাদের অতিরিক্ত সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী বান্ধবীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে কয়েকজন যুবকের হাতে আটক হন। পরে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তিনজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং অপর তিনজন ঘটনাটি সংঘটিত করতে সহযোগিতা করে। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় এক ব্যক্তি এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় ওই ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েক দিন পর তার বাবা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি সাজা হ্রাস বা কারাভোগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন না। অন্যদিকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে বিচারপূর্ব হাজতবাসের সময় আইন অনুযায়ী দণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
এছাড়া আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, আপিলের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর দণ্ডিতদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে অর্থ আদায় করে তা ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেবে।
রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, উপস্থাপিত সাক্ষ্য, প্রমাণ ও আলামতের ভিত্তিতেই আদালত ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান।



