রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ছয় ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০১:৪১ পিএম

ছয় ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

ছবিঃ সংগৃহীত

নড়াইল সদর উপজেলায় ছয় শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিশুর মায়ের করা মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগর এলাকার গাছা থানা এলাকা থেকে মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বয়স ২৫ বছর। তিনি নড়াইলের মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে। নড়াইল পৌরসভার একটি মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পুলিশ ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট বিকেলে এক শিশুর মা তার সন্তানকে দেখতে ডুমরতলা গ্রামে অবস্থিত ওই মাদরাসায় যান। সেখানে আট বছর বয়সী শিশুটি মায়ের কাছে তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা জানায়। শিশুটির অভিযোগ, আগের রাতে মাদরাসার শিক্ষক মাহবুবুর রহমান তাকে ধর্ষণ করেন।

সন্তানের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর তার মা তাৎক্ষণিকভাবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে কর্তৃপক্ষ শিশুটির কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে সে বিস্তারিত অভিযোগ করে। এ সময় একই প্রতিষ্ঠানে থাকা আরও পাঁচ শিশু শিক্ষার্থীও তাদের সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করে।

ছয় শিশুর কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। অভিযোগ প্রকাশের পর অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমান মাদরাসা থেকে চলে যান এবং আত্মগোপনে থাকেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পরে ভুক্তভোগী এক শিশুর মা গত ৫ সেপ্টেম্বর নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। মামলার প্রায় ১০ ঘণ্টার মধ্যেই গাজীপুর মহানগর এলাকার গাছা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজয় কুমার কুণ্ডু জানান, এক শিশুর মা তার সন্তানের সঙ্গে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেন। অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা নেওয়া হয়। মামলায় নাম উল্লেখ থাকা আসামি মাহবুবুর রহমানকে মামলা হওয়ার প্রায় ১০ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুর মহানগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে মামলার অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুদের নিরাপত্তা, মানসিক সহায়তা এবং যথাযথ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুদের পরিচয় প্রকাশ না করে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!