রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নড়াইলে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

নড়াইলে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের

ছবি: সংগৃহীত

নড়াইলে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় পুকুরের পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে আপন দুই ভাই। বুধবার (১০ জুন) সকালে নড়াইল পৌরসভার ভাটিয়া এলাকায় ঘটে হৃদয়বিদারক এই ঘটনা। একসঙ্গে দুই শিশুর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।

নিহত দুই শিশু হলো আবু বক্কার (৫) ও ওমর ফারুক (২)। তারা ভাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মাজেদুল শেখের সন্তান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে দুই শিশুকে নিয়ে ঘরের ভেতর বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তাদের মা। একপর্যায়ে ক্লান্তিতে তিনি ঘুমিয়ে পড়লে অজান্তেই শিশুরা ঘর থেকে বের হয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘরের পাশেই একটি পুকুর রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, খেলতে খেলতেই শিশুরা পুকুরপাড়ে চলে যায় এবং অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর ঘুম ভাঙার পর সন্তানদের পাশে না দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন মা। বাড়ির আশপাশসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি। পরে স্থানীয় লোকজনও অনুসন্ধানে যোগ দেন।

একপর্যায়ে বাড়ির পাশের পুকুরে ছোট ছেলে ওমর ফারুককে ভাসতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা পানিতে নেমে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে একই পুকুরের ভেতর থেকে বড় ভাই আবু বক্কারকেও উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাদের নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, দুই শিশুই ছিল অত্যন্ত চঞ্চল ও সবার প্রিয়। তাদের আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে একসঙ্গে দুই সন্তান হারিয়ে শোকাহত পরিবার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়ির আশপাশে থাকা পুকুর বা জলাশয়ের বিষয়ে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। অভিভাবকদের অসতর্কতার সামান্য ফাঁকও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারির আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নড়াইল সদর থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজয় কুমার কুন্ডু জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একই পরিবারের দুই নিষ্পাপ শিশুর এমন করুণ মৃত্যু নড়াইলবাসীকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক প্রকাশ করছেন অনেকে। সবার প্রার্থনা—শোকসন্তপ্ত পরিবার যেন এই কঠিন সময় সামলে ওঠার শক্তি পায়।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!