রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নড়াইলে শিক্ষকের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ১০:২৮ এএম

নড়াইলে শিক্ষকের নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

নড়াইল সদর উপজেলায় সুলায়মান ইসলাম নামে ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষকদের নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ নির্ধারণের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

সুলায়মান সদর উপজেলার আউড়িয়া গ্রামের মারকাযুল কুরআন মাদরাসার আবাসিক শিক্ষার্থী ছিল। সে রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ ইকরাম আলীর ছেলে।

পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা যায়, বুধবার ভোররাতে মাদরাসার আবাসিক ভবনে থাকা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে সুলায়মান। পরে বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

পরিবারের সদস্যরা তাকে যশোরের উদ্দেশে নিয়ে রওনা হন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মাদরাসার শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়।

নিহতের বাবা সৈয়দ ইকরামুলের দাবি, সকালে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ছেলের অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত সেখানে যান। পরে সুলায়মানকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসার জন্য যশোরে নেওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়। তার অভিযোগ, মাদরাসায় শিক্ষকদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার কারণেই ছেলে অসুস্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেছে।

তবে পরিবারের এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস সায়াদাৎ আল মামুন। তার দাবি, মাদরাসার কোনো শিক্ষক সুলায়মানের ওপর নির্যাতন করেননি। তিনি বলেন, চিকিৎসা ও তদন্তের মাধ্যমে যদি নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় এবং মাদরাসার কেউ এর সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে।

ঘটনার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদরাসার তিন শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন ইউসুফ হায়দার, হাসিবুর রহমান ও ফাহাদ শেখ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ইউসুফ হায়দারের বয়স ৩২ বছর, হাসিবুর রহমানের ২৮ বছর এবং ফাহাদ শেখের বয়স ২৫ বছর।

নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রকিবুল হাসান জানিয়েছেন, সুলায়মানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এসব প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মৃত শিক্ষার্থীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবারের অভিযোগ এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এ ঘটনায় সুলায়মানের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত ও তদন্তের প্রতিবেদন হাতে না আসা পর্যন্ত তার মৃত্যুর পেছনে নির্যাতনই দায়ী ছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!