প্রকাশিত: জুলাই ২১, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী গর্ভের সন্তান হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বড় বোনকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার হন ময়না আক্তার নামের ওই নারী। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বড় বোন পারভিন বেগম দীর্ঘদিন ধরে একা বসবাস করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার বসতভিটা দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। প্রায়ই তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো বলে পরিবারের দাবি।
ঘটনার দিন পারভিন বেগমের ওপর হামলার খবর পেয়ে ছোট বোন ময়না আক্তার ঘটনাস্থলে ছুটে যান। অভিযোগ রয়েছে, হামলার ঘটনা মুঠোফোনে ধারণ করতে গেলে হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হয়। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা জানিয়ে অনুরোধ করলেও হামলা বন্ধ হয়নি। পরিবারের দাবি, পেটে লাঠির আঘাতের কারণে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার গর্ভপাত হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতালের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আঘাতজনিত জটিলতার কারণে গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে। তবে চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, তিনি কেবল বড় বোনকে রক্ষা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু হামলাকারীরা তার শারীরিক অবস্থার কথা জেনেও নির্দয়ভাবে মারধর করে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



