প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর নিখোঁজ হওয়া হাফিজুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের দুই দিন পর বুধবার সকালে সাতৈর ও মহিশালার মধ্যবর্তী আরাজি পাইকোহাটি পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের সামনে পাশের খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হাফিজুর রহমান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পিংগলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বোয়ালমারী ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে গত ১৭ আগস্ট সকালে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে স্বজনরা তাকে নিখোঁজ বলে জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সাতৈর ও মহিশালার মাঝামাঝি আরাজি পাইকোহাটি এলাকায় একটি বাসের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই সেখানে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হলেও সে সময় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এরপর বুধবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা খালের পানিতে কাদার মধ্যে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে মরদেহের গলায় থাকা পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরিচয়পত্রে হাফিজুর রহমানের নামের পাশাপাশি তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামও উল্লেখ ছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, সংঘর্ষের সময় বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার পর হাফিজুর পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি ও কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।
চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় হাফিজুরের পরিবারের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল। দুই দিন পর তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।



