প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ১১:০৯ এএম
উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি আবারও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার সকালে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পরিমাপ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, নদীর পানির উচ্চতা বিপৎসীমার মাত্র এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।
সর্বশেষ পরিমাপ অনুযায়ী, সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ১৪ মিটার। ওই স্থানে বিপৎসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। এর আগে সকাল ৬টার পরিমাপেও একই অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টা ধরে নদীর পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে নদীতে পানির চাপ থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উজান থেকে নতুন করে অতিরিক্ত ঢল না এলে আগামী দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে পানির উচ্চতা ধীরে ধীরে কমে বিপৎসীমা থেকে আরও নিচে নেমে আসবে। তবুও নদীর গতিপ্রকৃতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি তাদের জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে উজানের বৃষ্টিপাত বাড়লেই নদীর পানি অল্প সময়ের মধ্যে দ্রুত বেড়ে যায়। এ কারণে নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল, নিম্নভূমি এবং কৃষিজমিতে বসবাসকারী মানুষ সবসময় সতর্ক অবস্থানে থাকেন। অনেকেই গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রেখেছেন।
চলতি বর্ষা মৌসুমে এটি তিস্তা নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধির তৃতীয় উল্লেখযোগ্য ঘটনা। গত ২৩ জুন প্রথমবারের মতো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। সে সময় পানির উচ্চতা বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপরে উঠেছিল। পরে পানি কমে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এরপর ২৮ জুন দ্বিতীয় দফায় নদীর পানি আরও বেড়ে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপরে পৌঁছায়। তবে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর পরিস্থিতির উন্নতি হয় এবং পানি আবার বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম এখনো চলমান থাকায় উজানের বৃষ্টিপাতের ওপর তিস্তার পানির উচ্চতা অনেকটাই নির্ভর করছে। তাই নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া গেলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।



