রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিপৎসীমার কাছাকাছি নদীর পানি, উদ্বেগে সিলেটবাসী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

বিপৎসীমার কাছাকাছি নদীর পানি, উদ্বেগে সিলেটবাসী

ফাইল ছবি

টানা বর্ষণ এবং ভারতের আসাম অঞ্চল থেকে নেমে আসা উজানের ঢলের কারণে সিলেট বিভাগের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, আবার কোথাও কোথাও তা অতিক্রমও করেছে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে সিলেট পয়েন্টেও পানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও তা এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করেছে এবং ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সারিগোয়াইন, পিয়াইন, লোভা ও ধলাই নদীর পানিও ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী চব্বিশ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়াও হতে পারে। ফলে নদ-নদীর পানির স্তর আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট জেলার তেরটি উপজেলায় মোট ৫৭৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে শুকনা খাবার, শিশুখাদ্য, চাল, ঢেউটিন ও নগদ অর্থসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় প্রাথমিক সহায়তাও বিতরণ শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০৫টি চিকিৎসা দল প্রস্তুত রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, সাপের বিষ প্রতিরোধী ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সংরক্ষণ করা হয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় বৃষ্টির পাশাপাশি উজানের ঢলই পানির উচ্চতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ। তবে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পানি কমতে শুরু করতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নদীর পানি ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!