রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কুষ্টিয়ায় বাবার জানাজা শেষ করতেই এলো মেয়ের মৃত্যু সংবাদ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৫, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম

কুষ্টিয়ায় বাবার জানাজা শেষ করতেই এলো মেয়ের মৃত্যু সংবাদ

সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় একই দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে নেমে এসেছে গভীর শোক। সকালে বাবাকে চিরবিদায় জানিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই মেয়ের মৃত্যুসংবাদ পান এক ব্যক্তি। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার পরিবেশ।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলী (৭২) বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার বিকেলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরদিন সকালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা তখনও বাড়ি ফেরার পথে ছিলেন। ঠিক সেই সময় আসে আরেকটি শোকাবহ সংবাদ। পরিবারের তরুণ সদস্য মুন্নি খাতুন (২৩) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

স্বজনরা জানান, দাদার মৃত্যুতে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছিলেন মুন্নি। শুক্রবার রাতে দাদার মরদেহের পাশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে কান্নাকাটি করার একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। তবে সেই সুযোগ আর হয়নি। শনিবার সকালেই তার মৃত্যু হয়।

মুন্নির বাবা তুজাম উদ্দিন জানান, একদিনে বাবা ও মেয়েকে হারানোর বেদনা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। সকালে বাবার দাফন শেষ করেছি, আর বাড়ি ফেরার আগেই জানতে পারি আমার মেয়েও পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। এই শোক বহন করার শক্তি যেন আর অবশিষ্ট নেই।

পরিবার জানায়, প্রায় এক বছর আগে মুন্নির বিয়ে হয়। তিনি কিছুদিন ধরে টাইফয়েডে আক্রান্ত ছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিসজনিত সমস্যায়ও ভুগছিলেন। দাদার মৃত্যুর শোক ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে বলে ধারণা করছেন স্বজনরা।

পরে বিকেলে একই কবরস্থানে দাদা ফুলবাস আলীর কবরের পাশেই মুন্নি খাতুনকে দাফন করা হয়। একই দিনে একই পরিবারের দুই সদস্যকে পাশাপাশি সমাহিত করার দৃশ্য উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসীকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা এই এলাকায় আগে কেউ দেখেননি। সকালে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় জানানো হয়েছে, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার নাতনির মৃত্যুতে পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। অনেকেই পরিবারের জন্য দোয়া করেন এবং এমন বেদনাদায়ক পরিস্থিতি যেন আর কোনো পরিবারের জীবনে না আসে, সেই কামনা জানান।

পরিবারের সদস্যদের আহাজারি আর স্বজনদের কান্নায় দিনভর শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করে এলাকাজুড়ে। প্রতিবেশীদের ভাষায়, একই দিনে দাদা ও নাতনির বিদায় শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো গ্রামের জন্যই এক অপূরণীয় বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!