প্রকাশিত: আগস্ট ৩১, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার হাজতখানায় পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ইকবাল শেখ গারো নামে ৪১ বছর বয়সী এক আসামি। তবে পাশের হাজতে থাকা আরেক আসামি বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে দ্রুত সেখানে ছুটে যান দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কুমারখালী থানার হাজতখানায় এ ঘটনা ঘটে। থানায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরার দৃশ্যেও ঘটনার বিষয়টি ধরা পড়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ইকবাল শেখ গারো কুমারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়নের বাটিকামারা এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত ইসলাম শেখের ছেলে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোরে বিশেষ দায়িত্ব পালনের সময় ইকবালকে পাঁচটি মুরগিসহ সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পায় পুলিশ। পরে তাকে থামিয়ে মুরগিগুলো সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা যায় এবং মুরগিগুলোর বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক কোনো তথ্য বা প্রমাণ দিতে পারেননি বলে জানানো হয়েছে।
এরপর ভোর ৬টার দিকে তাকে আটক করে থানার হাজতখানায় রাখা হয়। আটকের কিছুক্ষণ পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি নিজের পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে ফেলেন। পরে সেই কাপড়ের একটি অংশ হাজতখানার দেয়ালে থাকা লোহার গ্রিলের সঙ্গে বেঁধে গলায় ফাঁস নেওয়ার চেষ্টা করেন।
প্রথমবারের চেষ্টায় সফল না হলেও তিনি কিছুক্ষণ পর আবার একইভাবে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় হাজতখানায় থাকা অন্য একজন আসামি ঘটনাটি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকার শুনে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ইকবালকে উদ্ধার করেন।
পরে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর তার অবস্থার উন্নতি হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত ও সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন জানান, পাঁচটি মুরগি সঙ্গে থাকায় ইকবালকে প্রথমে সন্দেহ করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক তথ্য না পাওয়ায় তাকে থানার হাজতে রাখা হয়। পরে তিনি সেখানে নিজের পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, হাজতখানায় আত্মহত্যার চেষ্টা করার ঘটনায় ইকবালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় মামলা করেছে।
ঘটনার পর থানার হাজতখানায় থাকা আসামিদের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়েও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা সতর্ক হয়েছেন। পাশাপাশি আটক ব্যক্তির আচরণ ও মানসিক অবস্থার বিষয়ে নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে।
এদিকে, কী কারণে ইকবাল হাজতখানায় আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে এর পেছনের কারণ জানার চেষ্টা চলছে।



