রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বরিশালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, এক মাসেই আক্রান্ত ১৪৫০

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৮:০০ এএম

বরিশালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, এক মাসেই আক্রান্ত ১৪৫০

ফাইল ছবি

বর্ষাকাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশাল বিভাগে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৫৬৭ জন। এর মধ্যে শুধু চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২৬ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪৫০ জন, যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচজন।

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। আক্রান্তের সংখ্যার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও মূলত এই দুই জেলাতেই বেশি ঘটেছে। চলতি বছরে পিরোজপুরে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে, আর ঝালকাঠিতেও আক্রান্তের সংখ্যা নয় শতাধিক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়লেও ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পৃথক ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক সরকারি হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বরিশালের প্রধান সরকারি হাসপাতালগুলোতে আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড না থাকায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকিদের চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি গুরুতর হলেও অধিকাংশ এলাকায় নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হয় না। অনেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মশার ওষুধ ছিটানোর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। বর্ষার পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও তা দ্রুত অপসারণ করা হচ্ছে না। ফলে এডিস মশার বংশবিস্তার আরও সহজ হয়ে উঠছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের স্বজনদের দাবি, শুধু চিকিৎসা নয়, রোগ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, পৌরসভা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও সক্রিয় হতে হবে। সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়ানো, নিয়মিত মশা নিধন অভিযান পরিচালনা এবং জলাবদ্ধতা দূর করার ওপর তারা জোর দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় এডিস মশার প্রজনন দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র এবং যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করা জরুরি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত সতর্কতা, মশারি ব্যবহার এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। রোগের বিস্তার রোধে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। অন্যথায় বর্ষার বাকি সময়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!