প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে আটক এক গৃহবধূর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে। বুধবার আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতির সময় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে, অন্যদিকে পুলিশের দাবি, আটকের সময় ওই নারী মাদকদ্রব্য গিলে ফেলায় অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
মৃত গৃহবধূর নাম নাদিয়া বেগম। তাঁর বয়স নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে—পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে কোথাও ৩৮ বছর এবং কোথাও ৪০ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠী গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক গাজী ওরফে মন্টু মেম্বারের স্ত্রী। তাঁর একটি আড়াই বছর বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে কৃষ্ণকাঠী গ্রামের একটি বাড়ি থেকে নাদিয়াকে আটক করা হয়। পরদিন সকালে পুলিশ জানায়, তাঁর কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন ও মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৫৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, আটকের সময় নাদিয়া ইয়াবা গিলে ফেলেছিলেন। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বুধবার তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে নাদিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, আটকের সময় তাঁর কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা হয়নি। নাদিয়ার স্বামী এনামুল হক মন্টু গাজীর অভিযোগ, থানায় নেওয়ার পর তাঁর স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। সেই নির্যাতনের কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে নাদিয়ার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলা থাকার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদিল হোসেনের দাবি, নাদিয়ার স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। একই পরিবারের আরেক সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদকসংক্রান্ত মামলা থাকার কথা জানান তিনি।
ঘটনার বিষয়ে বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও বাকেরগঞ্জ সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ বলেন, এলাকায় ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সেই অভিযানের অংশ হিসেবেই নাদিয়াকে আটক করা হয়েছিল। পরে কারাগারে পাঠানোর আগে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান।
তিনি আরও জানান, ওই নারীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। চিকিৎসকের প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফল পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নাদিয়ার মরদেহ বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিবারের অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্যের মধ্যে যে ভিন্নতা তৈরি হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশ হেফাজতে একজন নারীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং চিকিৎসাবিষয়ক প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



