প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মেহেদী হাসান তুরাগ নামে ৩২ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে উপজেলার কটকস্থল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মেহেদী হাসান তুরাগ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা। বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে ঢাকা থেকে নিজ গ্রামের বাড়ি বাবুগঞ্জে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।
সঙ্গে থাকা বন্ধু তরিকুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে চার বন্ধু একটি মোটরসাইকেলে করে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। তারা গৌরনদী উপজেলার কটকস্থল এলাকায় পৌঁছালে মহাসড়কের ওপর থাকা একটি খাদের মধ্যে মোটরসাইকেলটি পড়ে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ ঘটে।
দুর্ঘটনায় মেহেদী হাসান তুরাগ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে দ্রুত গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশ রাতের দিকে ঘটনাস্থলে যায়। গৌরনদী হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম জানান, রাত ৩টার দিকে তারা দুর্ঘটনার খবর পান। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি অজ্ঞাতনামা পরিবহনের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়েছিল। তবে দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট পরিবহনটি ঘটনাস্থলে না থাকায় সেটিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরিবহনটির পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, মহাসড়কের ওপর থাকা খাদের কারণে মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারানোর পরই দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে মোটরসাইকেলটি খাদে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে বিপরীত দিক থেকে আসা ট্রাক বা পরিবহনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাতের বেলায় ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে এমন দুর্ঘটনায় মেহেদীর মৃত্যুতে তার বন্ধু ও স্থানীয়দের মধ্যেও শোক বিরাজ করছে।
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কটি দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথগুলোর একটি। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ, গর্ত ও খানাখন্দ থাকায় যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
গৌরনদীর এই দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত সংস্কার এবং রাতে যান চলাচলে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাত পরিবহনটি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।



