প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
চট্টগ্রামে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেছেন, কোনো অপরাধীর পরিচয় রাজনৈতিক, সামাজিক কিংবা অন্য কোনো পরিচয়ে নির্ধারিত হয় না। অপরাধে জড়িত ব্যক্তির একমাত্র পরিচয় তিনি একজন অপরাধী এবং তাকে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান এবং স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের সমন্বয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। তদন্তে জড়িতদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পুলিশের হাতে এসেছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, বর্তমানে অনেক অপরাধী নিজেদের অবস্থান গোপন রাখতে আধুনিক প্রযুক্তি, বিদেশি যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে অপরাধ করে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, একটি বড় অপরাধী চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু মাঠপর্যায়ের সদস্য নয়, তাদের সহযোগী, অর্থের উৎস, অস্ত্র সরবরাহকারী এবং নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধেও তদন্ত অব্যাহত থাকবে।
মো. মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে পুলিশের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে নয়। হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, অস্ত্রের ব্যবহার কিংবা অন্য যেকোনো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।



