রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ে ৩৯৭ শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছাল চক-স্লেট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ে ৩৯৭ শিক্ষার্থীর হাতে পৌঁছাল চক-স্লেট

সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও সহজ ও গতিশীল করতে প্রায় চার শতাধিক শিশুর হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়মিত পাঠদানে উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর আওতায় সাতটি বিদ্যালয় ও শিক্ষা কেন্দ্রে অধ্যয়নরত মোট ৩৯৭ জন শিক্ষার্থী চক ও স্লেট পেয়েছে।

উদ্যোগ সংশ্লিষ্টরা জানান, পাহাড়ি এলাকার অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের সংকটে রয়েছে। ভৌগোলিক প্রতিকূলতা, দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সীমিত অবকাঠামোর কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই শিশুদের হাতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

গত ২৬ থেকে ২৮ জুলাই খাগড়াছড়ি সদর, মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে উপকরণ বিতরণ করা হয়। কর্মসূচির আওতায় খাগড়াছড়ি সদরের দুটি বিদ্যালয়, মাটিরাঙ্গার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পানছড়ির তিনটি শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা এ সহায়তা পেয়েছে।

মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে আয়োজকদের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে সরু পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। কোথাও পাহাড়ি যানবাহন, আবার কোথাও মোটরসাইকেলের সাহায্যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শিক্ষা উপকরণ পৌঁছে দেওয়া হয়। কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিকটবর্তী বাজার থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় সেখানে যাতায়াতও ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

এলাকাবাসীর জীবনযাত্রাও নানা চ্যালেঞ্জে ঘেরা। বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় অনেক পরিবারকে প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে পানি সংগ্রহ করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যোগাযোগ আরও দুরূহ হয়ে পড়ে, যার প্রভাব শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতেও পড়ে।

উদ্যোগ বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, পাহাড়ি শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তাদের বিশ্বাস, ধারাবাহিক সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা গেলে দুর্গম এলাকার শিশুরাও সমানভাবে শিক্ষার আলোয় এগিয়ে যেতে পারবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!