প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
খাগড়াছড়ির রামগড়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে পাত্রের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সচেতনতার ঘাটতিকেও সামনে এনেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের থলিপাড়া গ্রামে। গত ৯ আগস্ট ওই গ্রামের এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়ের জন্য বাড়িতে অতিথি ও বরযাত্রী চলে আসার পর প্রশাসনের কাছে খবর পৌঁছায়। পরে রামগড় উপজেলা সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল জান্নাত পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
কনের জন্মনিবন্ধন যাচাই করে দেখা যায়, তার জন্মতারিখ ২ জানুয়ারি ২০১৩। সে হিসাবে তখন তার বয়স ১৩ বছরের কিছু বেশি। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি কনের বাবা মহিন উদ্দিন মানিককে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
শুধু জরিমানা করেই বিষয়টি শেষ করা হয়নি। ভবিষ্যতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে কনের পরিবারের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নেওয়া হয়। একইভাবে পাত্রপক্ষের অভিভাবকদের কাছ থেকেও অপ্রাপ্তবয়স্ক কাউকে বিয়ে না করার প্রতিশ্রুতি নেওয়া হয়। প্রশাসনের উপস্থিতিতে বরযাত্রীদেরও সেখান থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
তবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী নুরুল আলমের দাবি, প্রশাসনের অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই কিশোরী নির্ধারিত পাত্রের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্য কোথাও নয়, যে তরুণের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল, তার সঙ্গেই সে চলে গেছে।
জানা গেছে, কিশোরীর সঙ্গে যে যুবকের বিয়ে ঠিক করা হয়েছিল, তার বয়স ২৫ বছর। বিয়ের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছিল। বরপক্ষের লোকজন বিয়েবাড়িতে এসে খাওয়া-দাওয়াও শেষ করেছিলেন। এমন সময় প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীন আল জান্নাত বলেন, শিশুটির বয়স অনুযায়ী তাকে বিয়ে দেওয়া আইনবিরোধী। বিয়েবাড়িতে উপস্থিত সবাইকে বাল্যবিয়ের ক্ষতিকর দিক এবং এর আইনগত পরিণতি সম্পর্কে বোঝানো হয়েছিল।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, শুধু প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে বাল্যবিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। পরিবার, বিদ্যালয়, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে বাল্যবিয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে পরিবারগুলোকে সচেতন করার পাশাপাশি বিয়ে বন্ধ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কিশোরী ও পরিবারের ওপর নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধের উদ্যোগ টেকসই করা কঠিন।



