প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় এস আলম গ্রুপের সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর সব কারখানার কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় কয়েক হাজার শ্রমিক ও কর্মচারীর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন কারখানায় ধাপে ধাপে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হলেও এবার একযোগে উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বন্ধ হওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে চিনি পরিশোধন, ইস্পাত, সিমেন্ট, ভোজ্যতেল, ব্যাগসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কারখানা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে জটিলতা এবং ব্যাংকঋণ ও আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। মজুত থাকা কাঁচামাল দিয়ে সীমিত পরিসরে কিছুদিন কারখানা চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, বৃহস্পতিবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ডে চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত তারিখ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাকরি কার্যকরভাবে শেষ হবে। এতে অনেক শ্রমিক ও কর্মচারীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু চিনি পরিশোধন কারখানাতেই কয়েক শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। অন্যান্য কারখানাসহ মোট কয়েক হাজার শ্রমিক ও কর্মচারী এই শিল্পগোষ্ঠীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিয়ে শঙ্কা আরও বেড়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। শিল্প খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আর্থিক সংকট দ্রুত কাটিয়ে উৎপাদন পুনরায় চালু করা না গেলে স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।



