প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় কবর খননের সময় এক ব্যতিক্রমী ঘটনার জন্ম হয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রায় ২৪ বছর আগে দাফন করা এক ব্যক্তির মরদেহ কাফনের কাপড়সহ প্রায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে এবং দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাথের পেটুয়া ইউনিয়নের উলুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বহু বছর আগে মৃত্যুবরণ করলে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। সম্প্রতি তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মৃত্যুবরণ করলে পরিবারের সদস্যরা স্বামীর কবরের পাশেই তাকে দাফনের সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য নতুন কবর খননের সময় পুরোনো কবরের অংশে পৌঁছালে রমজান আলীর মরদেহ ও কাফনের কাপড় প্রায় অক্ষত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন স্বজনরা।
ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। অনেকে নিজের চোখে বিষয়টি দেখেছেন বলে দাবি করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, রমজান আলী একজন সৎ, বিনয়ী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। জীবিকার জন্য তিনি হাটবাজারে চাল ও আটা বিক্রি করতেন এবং নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন বলেও জানিয়েছেন তারা।
কবর খননের কাজে যুক্ত এক ব্যক্তি জানান, মাটি সরানোর সময় কাফনের কাপড়সহ মরদেহ প্রায় অক্ষত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তিনি আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে অনেকেই এসে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
রমজান আলীর ছেলে কামাল হোসেন বলেন, মায়ের দাফনের জন্য কবর খননের সময় বাবার মরদেহ ও কাফনের কাপড় প্রায় অক্ষত অবস্থায় দেখতে পান তারা। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে বাবার কবরের পাশেই মায়ের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক ধর্মীয় নেতা বলেন, এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তবে তিনি এটিকে ধর্মীয় বিশ্বাসের আলোকে মূল্যায়ন করলেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন।
অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ সময় পর কোনো মরদেহ কী অবস্থায় থাকবে, তা বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। মরদেহের অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে হলে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তাই বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান জরুরি।



