প্রকাশিত: আগস্ট ১, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ডাকযোগে কাফনের কাপড় ও বেনামি চিঠি পাঠিয়ে এক বিএনপি নেতা এবং আরও ১৩ জনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার সকালে আদাউর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে একটি বড় পার্সেল পৌঁছায়। পার্সেল খুলে দেখা যায়, এর ভেতরে একটি কাফনের কাপড় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক ভাষায় লেখা একটি বেনামি চিঠি রয়েছে। চিঠিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর খোরশেদ আলমকে লক্ষ্য করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আরও ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
চিঠিতে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন মন্তব্যও করা হয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মীর খোরশেদ আলম জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি দ্রুত থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন এবং জেলার পুলিশ সুপারকেও অবহিত করেন। পাশাপাশি যিনি বা যারা এই চিঠি পাঠিয়েছেন, তাদের উদ্দেশে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, ব্যক্তিগতভাবে তিনি কারও প্রতি অন্যায় করেননি। কারও কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ থাকলে তা সরাসরি জানানো উচিত, ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দাবি, এ ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে ঘটানো হতে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলের অনেকে মনে করছেন, পুরো ঘটনার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য উদঘাটন করা জরুরি। তারা বলছেন, এটি কেবল একজন ব্যক্তিকে ভয় দেখানোর ঘটনা নয়, বরং এলাকায় অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টাও হতে পারে।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পার্সেলটি কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং হুমকির পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।



