রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অ্যাম্বুলেন্স ঢোকে না এই সড়কে, মরদেহ নিতে হয় কাঁধে করে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

অ্যাম্বুলেন্স ঢোকে না এই সড়কে, মরদেহ নিতে হয় কাঁধে করে

সংগৃহীত

রাজধানীর বিমানবন্দর সংলগ্ন হজ ক্যাম্প থেকে তালতলা নর্দা পর্যন্ত অল্প দূরত্বের সড়কটি এখন স্থানীয় মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র আড়াই কিলোমিটারের এই পথজুড়ে কাদা, জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা অংশের কারণে স্বাভাবিক চলাচল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আশকোনা, কাওলা তালুকদারপাড়া ও গাওয়াইর এলাকার বাসিন্দারা প্রতিদিন সীমাহীন কষ্টের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের এমন করুণ অবস্থা থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হওয়ায় মানুষ নিজ উদ্যোগে ইটের খোয়া, নির্মাণসামগ্রীর ভাঙা অংশ ও বালুভর্তি বস্তা ফেলে অস্থায়ী চলার পথ তৈরি করেছেন। তবে বৃষ্টি হলে সেই পথও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় জরুরি চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে। অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারে না। ফলে রোগী কিংবা মরদেহ বহনের জন্য স্বজনদের কাঁধই একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে। এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সম্প্রতি তাঁর সন্তান মারা গেলে মরদেহ দীর্ঘ পথ কাঁধে বহন করে দাফনের স্থানে নিতে হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, বছরের পর বছর ধরে এলাকার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ কোথায় ব্যয় হয়েছে, সেটি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

দুর্বিষহ এই যোগাযোগব্যবস্থার প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। ক্রেতার অভাবে একের পর এক দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লোকসান সামলাতে না পেরে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়া ব্যাহত হচ্ছে। বর্ষাকালে অনেক অভিভাবক ঝুঁকির কারণে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে সাহস পান না। ফলে উপস্থিতি কমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও সংকটে পড়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক সংস্কার নয়, দ্রুত টেকসই সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান উন্নয়নকাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো ঠিকাদারের গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!