প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
প্রায় পঁচিশ বছর ধরে একটি মসজিদই হয়ে উঠেছে কনু মিয়ার স্থায়ী ঠিকানা। স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি পরিচিত হলেও তাঁর প্রকৃত নাম, গ্রামের বাড়ি কিংবা পরিবারের কোনো তথ্য আজও জানা যায়নি। পরিচয়হীন এই মানুষটি দীর্ঘদিন ধরে নীরবে মসজিদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুই হাজার এক সালের দিকে আশ্রয়হীন অবস্থায় মধ্য বোয়ালখালী বাজার এলাকায় প্রথম দেখা যায় কনু মিয়াকে। প্রথমে অনেকেই তাঁকে মানসিকভাবে অসুস্থ মনে করলেও পরে কথা বলে বুঝতে পারেন, তিনি স্বাভাবিকভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। এরপর মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এলাকাবাসী তাঁকে মধ্য বোয়ালখালী বাইতুন নূর জামে মসজিদে থাকার ব্যবস্থা করে দেন। সেই থেকে মসজিদই তাঁর একমাত্র আশ্রয়।
প্রতিদিন ভোর থেকে তিনি মসজিদের আঙিনা পরিষ্কার, ঝাড়ু দেওয়া, অজুখানা পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ করেন। বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক দাবি করেন না। বিকেলের দিকে বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘুরে মানুষের দেওয়া সামান্য সহায়তা সংগ্রহ করেন। সেই অর্থ দিয়েই তাঁর ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো হয়। দুপুরের খাবারও স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের সহায়তায় জোটে। এলাকাবাসীর দাবি, তিনি মাছ কিংবা মাংস খেতে পছন্দ করেন না।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, এত দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় বসবাস করলেও তাঁর কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র, আত্মীয়-স্বজন কিংবা স্থায়ী ঠিকানার সন্ধান পাওয়া যায়নি। মসজিদ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে তাঁর থাকার জন্য একটি ছোট কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রতি সপ্তাহে কিছু অর্থ সংগ্রহ করে তাঁর চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় খরচ বহন করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মানবিক। কনু মিয়ার প্রকৃত পরিচয় বা পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। তিনি আরও জানান, কেউ যদি তাঁর পরিচয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানেন, তাহলে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তথ্যের সত্যতা মিললে তাঁর পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



